দৌলতপুরের পাট শ্রমিক জলিল হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাটছে না। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ১৪ বছরের ছেলেকে সন্ত্রাসীরা দেওয়া হুমকি উৎকণ্ঠাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। মামলা দায়েরের পর তিনদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এলাকাবাসী এ হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। পুলিশের দাবি হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের পারাবারিক সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার আসামি রাসেল ওরফে পেচি রাসেলের সাথে নিহত জলিল মুন্সির একসময় ভালো সম্পর্ক ছিল। প্রায় তার কাছ থেকে টাকা নিত রাসেল। গত ৪-৫ দিন ধরে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে সে। জলিল দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু সম্পর্কের দিক থেকে রাসেল ছোট ভাই হওয়ায় জলিল এতে কর্ণপাত করেনি। থানায় কোনো জিডিও করেনি সে।
সূত্রটি আরও জানায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কে যেন তাকে ফোন দেয়। এ সময় তাদের উভয়ের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ হয়। পরে সোহেল নামে তার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সে। সকাল ৮টার দিকে দৌলতপুর কুলিবাগান বটতলা ২০০ গজ দূরে একটি অফিসের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেল যোগে আসা তিন যুবক তার গতি রোধ করে। উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় জলিল মাটিতে পড়ে গেলে পেচি রাসেল কোমর থেকে পিস্তল বের করে তাকে গুলি করে। নিথর হয়ে পড়ে তার দেহ। এরপর স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দেয়। মোটরসাইকেলে থাকা দুই হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত পালিয়ে যায়। আর রাসেল ওরফে পেচি রাসেল অস্ত্র উঁচু করে ঘটনাস্থলে পাশের ফাঁকা মাঠ দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের কিছু দূরে পুলিশের একটি গাড়ি অবস্থান করছিল। কিন্তু তাদের আটকে তাদের আগ্রহ দেখা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের দুই ঘণ্টা পর ফোন করে পরিবারের সদস্যদেরকে হুমকি দেয় এক সন্ত্রাসী। এতে তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের কেউ থানায় মামলা করতে চায়নি অন্য সদস্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে। পুলিশের চাপের মুখে মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।
নিহত জলিলের ভগ্নিপতি রনি বলেন, জলিলের বাবা তিনজন আসামির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রবিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের মধ্যে রাসেল ওরফে পেচি রাসেল ও আসিফ মোল্লাকে ছাড়া আর কাউকে চিনি না। তিনি আরও বলেন, গুলি করার দুঘণ্টা পরে জলিলের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে ফোন দিয়ে পেচি রাসেল হুমকিও দেয়। এতে তারা উবিগ্ন। কারণ দৌলতপুর এখন সন্ত্রাসীদের অভ্যায়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না পুলিশ। জলিলের ছেলের কোনো ক্ষতি সে করবে কি না তার নিশ্চয়তা দেবে কে।
দৌলতপুর থানার ওসি তদন্ত জাহিদুল ইসলাম বলেন, রবিবার রাতে নিহত জলিলের পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আমাদের কাছে আসছে। সকল বিষয় যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কার্যক্রম সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের সিসি ফুটেজ হাতে এসেছে। এগুলো দেখে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
খুলনা গেজেট/এনএম

